কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফারজানা আক্তার মীম (১৭) নামের এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় ইতালি প্রবাসী পাভেল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং মামলা থেকে অব্যাহতির বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পাভেলের পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ভৈরব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন পাভেলের বাবা দুলাল মিয়া ও পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঘটক মো. খোকন মিয়া। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পাভেলের বাবা দুলাল মিয়া, চাচা হাসান মিয়া ও ঘটক খোকন মিয়া।
পরবর্তীতে মীমের পরিবার বিয়েতে রাজি নয় বলে জানায়। এর কারণ হিসেবে মীমের বাবা জীবন মিয়া পাভেলের মায়ের সঙ্গে ফোনে কথাকাটাকাটির বিষয়টি উল্লেখ করেন বলে দাবি করেন খোকন মিয়া। পরে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে আংটি, মোবাইল ফোন ও যাতায়াত বাবদ ২৫ হাজার টাকা লেনদেনের বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলেও জানান তিনি।
খোকন মিয়ার দাবি, ওই মীমাংসার ১০ থেকে ১২ দিন পর ২৬ আগস্ট রাতে নিজ ঘরে ইঁদুর মারার বিষ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন মীম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে তার মৃত্যু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দুলাল মিয়া বলেন, ‘মেয়ের পরিবার নিজেরাই বিয়ে ভেঙে দিয়েছিল। আমরা কোনো জোরজুলুম করিনি। বিষয়টি মীমাংসার মাধ্যমে শেষ হওয়ার ১০ থেকে ১২ দিন পর জানতে পারি, আমার প্রবাসী ছেলেসহ পরিবারের চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা প্রত্যাহারের শর্তে তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
পাভেলের বিরুদ্ধে মীমের কাছে নগ্ন ছবি চাওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তার বাবা। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে সুদূর ইতালিতে বৈধভাবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের পরিবারকে সামাজিক ও আর্থিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে দুলাল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা মীমের মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন তারা।