রবিবার , ৪ অক্টোবর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার: বিপ্লব-পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য অশনিসংকেত?

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন । ঢাকা ইনফো।
অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১:১১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

✍🏿 মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল তার নির্বাচনী ব্যবস্থায় নয়; বরং ভিন্নমতকে কতটা সহ্য করতে পারে, আইনের প্রয়োগ কতটা নিরপেক্ষ রাখতে পারে এবং একজন নাগরিকের অধিকার কতটা সুরক্ষিত রাখতে পারে; তার ওপরও গণতন্ত্রের গভীরতা নির্ভর করে। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অকুতোভয় সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার-সংক্রান্ত প্রশ্ন সামনে এনেছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে যাঁরা প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের অনেকের কাছেই রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়; এটি তাঁদের জীবন ও সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ফলে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার গ্রেফতারের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে অতিরিক্ত আগ্রহ ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনের আওতায় তদন্ত ও বিচার হওয়া স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের ক্ষমতা যেমন অস্বীকার করা যায় না, তেমনি সেই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

বিশেষ করে একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন গণতান্ত্রিক সরকার যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার চরিত্র সম্পর্কে জনগণের কাছে একটি বার্তা দেয়। জনগণ দেখতে চায়—ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের আচরণেও কি সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন এসেছে?

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অকুতোভয় সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারকে ঘিরে তাই মূল প্রশ্ন শুধু তিনি কেন গ্রেফতার হলেন; তা নয়। প্রশ্ন হলো, তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, সেই অভিযোগের আইনগত ভিত্তি কী, তাঁকে যথাযথ আইনি সহায়তার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না এবং বিচারিক প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছভাবে এগোচ্ছে।

গণতান্ত্রিক সমাজে রাষ্ট্রের সমালোচনা করার অধিকার এবং সরকারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি সরকারের সমালোচনা করলেই তিনি আইনের ঊর্ধ্বে চলে যাবেন; এমন নয়। আবার রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করাও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই রাষ্ট্রের বড় দায়িত্ব।

বিপ্লব বা বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের প্রত্যাশা থাকে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির। মানুষ আশা করে, অতীতের দমন-পীড়ন, প্রতিহিংসা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের শাসন, জবাবদিহি ও নাগরিক স্বাধীনতার সংস্কৃতি। সেই সময়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তির গ্রেফতার যদি স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে বলে জনমনে ধারণা সৃষ্টি করে, তাহলে তা নতুন সরকারের প্রতি আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে একই সঙ্গে এটিও মনে রাখা জরুরি—কোনো গ্রেফতারকে রাজনৈতিক নিপীড়ন বা গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে চূড়ান্তভাবে আখ্যায়িত করার আগে অভিযোগ, মামলার নথি, তদন্তের তথ্য এবং আদালতের কার্যক্রম বিবেচনা করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা যেমন জরুরি, তেমনি অভিযুক্ত ব্যক্তির সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

একটি বিপ্লব-পরবর্তী রাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতার পরিবর্তনকে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনে রূপ দেওয়া। পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোর পরিবর্তে নতুন কোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীন, আইন কতটা নিরপেক্ষ এবং নাগরিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত—তার ওপর।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অকুতোভয় সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারের ঘটনা একটি বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এনেছে; নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা কি সত্যিই একটি অধিকতর সহনশীল, জবাবদিহিমূলক ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে?

এই প্রশ্নের উত্তর সরকারের বক্তব্যে যতটা নয়, তার বাস্তব আচরণেই প্রতিফলিত হবে। তাই এই গ্রেফতারকে ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে উপেক্ষা না করে স্বচ্ছ তদন্ত, ন্যায়সংগত বিচারিক প্রক্রিয়া এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো, রাষ্ট্রের শক্তি শুধু তার হাতে থাকা ক্ষমতায় নয়, বরং সেই ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার সংযমে। একজন নাগরিকের অধিকার রক্ষা করে আইন প্রয়োগ করতে পারাই একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অকুতোভয় সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারের ঘটনায় রাষ্ট্র কতটা স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের নীতি অনুসরণ করে—তা শুধু একটি মামলার ফলাফল নয়; বরং পরিবর্তিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ও ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

লেখক:
ফ্রান্স থেকে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী
mahbubhossain786@yahoo.com

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন । ঢাকা ইনফো।

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন একজন ফ্রান্স প্রবাসী সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও সমাজ বিশ্লেষক। তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা, সামাজিক উন্নয়ন, সমসাময়িক রাজনীতি এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সংবাদ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});