জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংকটের সময় নিষ্ক্রিয় থাকা নয়, বরং তা মোকাবিলাই তাদের অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “রোম পুড়লে নিরোর মতো বসে বাঁশি বাজাবো না; আগুন নেভানোর চেষ্টাই করবো।”
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত শিশু হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, সংসদে হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আইসিইউ সুবিধা রয়েছে কি না—এ প্রশ্ন করা হলে ইতিবাচক উত্তর দেওয়া হয়েছিল। তবে একজন চিকিৎসক হিসেবে তার দাবি, বাস্তবে অধিকাংশ জায়গায় কার্যকর আইসিইউ নেই। আইসিইউ চালাতে প্রয়োজন প্রশিক্ষিত ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ, কিন্তু সেই সক্ষমতাও গড়ে ওঠেনি। কাগজে-কলমে যা দেখানো হয়, বাস্তবে তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতকে “পুরোপুরি বিপর্যস্ত” উল্লেখ করে তিনি বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে গিয়ে যে পরিস্থিতি দেখেছেন, তা হাসপাতালের চেয়ে বাজারের মতো মনে হয়েছে। চিকিৎসক ও কর্মীরা চরম চাপের মধ্যে কাজ করছেন। ১ হাজার শয্যার বিপরীতে সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ রোগী ভর্তি, আর প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ। অথচ সেই অনুপাতে জনবল, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নেই। তার অভিযোগ, দুর্নীতি ও অবহেলার কারণেই এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। তার মতে, সুশিক্ষা একটি জ্ঞানভিত্তিক জাতি গড়ে তোলে, আর উন্নত জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে সুস্থ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। তিনি আরও বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে অন্যান্য কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে সরকারি মন্ত্রীরা দেশের সমস্যাকে ততটা গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেন না। তবে সাধারণ মানুষের কাছে গেলে বাস্তব চিত্র ভিন্ন—সেখানে সমস্যা যেন পাহাড়সম জমে আছে।
অন্যদিকে, রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় তেলের পাম্প পরিদর্শন শেষে জামায়াত আমির বলেন, জ্বালানি সংকট হলে সবাই মিলে তা নিরসনের চেষ্টা করা হবে; কিন্তু আসল পরিস্থিতি ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। জনগণের এই ভোগান্তির কথা সংসদে তুলে ধরা হবে। পাম্পগুলো চাহিদার ৩ ভাগের ১ ভাগ জ্বালানি পায়, সে কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি নিয়ে জাতিকে সত্য তথ্য দিতে হবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে যারা তেল পান না। সংকট হলে সবাই মিলে নিরসনের চেষ্টা করা হবে।
কুশল/সাএ
